স্বপ্নভূমি ডেস্ক : যশোরে ৭১-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হামলার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন এনসিপির এক সদস্য। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার তফসিডাঙ্গা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে যশোর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এনসিপি সদস্য আব্দুল সালাম খোকন (৫১) মামলাটি করেন। তিনি শংকরপুর এলাকার মৃত ছবেদ আলীর ছেলে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন: তফসিডাঙ্গা গ্রামের মামুন, তার দুই ভাই মনিরুল ইসলাম ও কামারুল ইসলাম, এবং একই গ্রামের ওমর ফারুক বাবলু। অভিযোগে বলা হয়, তারা সবাই আওয়ামী লীগ সদস্য।
খোকনের দাবি, দোয়া মাহফিল ও গণভোজ চলাকালে আসামিরা ১০-১২ জন সহযোগীসহ বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি ও বাবুর্চি রশিদ মারধরের শিকার হন এবং চেয়ারের টেবিল ভাঙচুর ও খাবার নষ্ট করা হয়।
তবে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই। তারা জানান, মামুন ওই এলাকায় পুরনো ও নতুন ইটের ব্যবসা করেন। ইট ব্যবহার নিয়ে বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং পরে মামুনকে মারধর করে থানায় দেওয়া হয়।
চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই তাপস কুমার পাল জানান, মামলার ভিত্তিতে মামুনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে মামুনের পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাজানো। তারা জানান, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে এনসিপির যশোর জেলা সংগঠক নুরুজ্জামান বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সদস্যরা বাধা দিলে স্থানীয়রা প্রতিরোধ করে। এতে মামুন আহত হন এবং অন্যরা পালিয়ে যান।